চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:- কক্সবাজার সদরের কয়েক হাজার গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিটি ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। এই নিয়ে ২০২৪ সালে কক্সবাজার সদরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামসুন্নাহার সীমু নামে এক ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৫০০/২৪ ইং।
মামলার এজাহার সুএে জানা যায়, সামসুন্নাহার সীমু’র স্বামীর বড় ভাই (ভাসুর) খোরশেদ আলম ম্যানেজার হিসাবে কক্সবাজারের সিটি ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। সে সুবাদে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে একাউন্ট করার প্রস্তাব দেন। ভাসুরের মাধ্যমে গত ১৯/১০/২০১৫ ইং ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা ০৫ (পাঁচ) বৎসরের মেয়াদের জন্য একটি ডিপোজিট করেন। উক্ত ডিপোজিটের ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা ম্যানেজার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত ডিপোজিট রিসিভ (এমটিডিআর) প্রদান করেন। যাহার নম্বর-MTDR CICSL 02494/108। ওই ডিপোজিট করার সময় শর্ত ছিল ৫ (পাঁচ) বৎসর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা প্রদান করবেন সিটি ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। উক্ত ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাদী যোগাযোগ করলে ম্যানেজার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আজ কাল বলে কালক্ষেপন করে আসছিল। এর একপর্যায়ে তিনি লেনদেন অস্বীকার করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করিয়া হত্যার হুমকি দেন। পরে, খোরশেদ আলমসহ দুইজন পরস্পরের যোগসাজসে প্রতারণার শিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হয় ওই ভুক্তভোগী নারী।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাদী বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সামসুন্নাহার সীমু। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন কক্সবাজারের টুরিস্ট পুলিশকে। তদন্তে সিটি ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে কক্সবাজারে কোন প্রতিষ্ঠান নেই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাছাড়া ভুক্তভোগীর টাকা ঢাকাস্থ হেড অফিসেও জমা দেননি এবং সে নিজে টাকা আত্মসাত করে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বিরুদ্ধে। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হাজী চান মিয়া সওদাগর বাড়ির বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে।
গ্রাহকরা জানান, সিটি ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের দ্বিগুণ লাভ দেয়ার কথা বলে খেটে খাওয়া মানুষসহ, বিভিন্ন আয়ের মানুষদের কাছ থেকে টাকা জমা নিয়ে ছিল। কিন্তু কার্যালয় বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় এখানে আমানত করা কয়েক হাজার হাজার গ্রাহক হয়রানি হচ্ছে। পুলিশ প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৬ মার্চ ২৫ ইং কক্সবাজার সদর বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিবাদী খোরশেদ আলম এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামলার পরিচালনাকারী আইনজীবী এডভোকেট তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়াও খোরশেদ আলম বিরুদ্ধে তার নিজ গ্রাম এলাকায় অর্থ আত্মসাৎ সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে ভুক্তভোগী নারী শিমু জানা।