চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় ১৮ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের রিসার্চ অফিসার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে তিন দিনের পরিদর্শন তদন্ত শেষে আকবরশাহ থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশরাফ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, অবৈধ পাহাড় কাটার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমাদের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আকবরশাহ এলাকা পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনকালে জঙ্গল লতিফপুর মৌজার মীর আউলিয়া মাজার সড়কে পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় ব্যাপক আকারে পাহাড় কাটায় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন (৪০) এবং মোহাম্মদ আক্তারসহ (৫০) আরও কয়েকজনের চারটি সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আকবরশাহ এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছিল। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। তারা পাহাড়ের বিশাল অংশ স্কেবেটর দিয়ে কেটে ফেলে এবং সেখানে ভবন, মুরগির খামার, দোকান, প্লট নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
একটি মামলায় আমজাদ হোসেন, জামাল উদ্দিন ও আক্তারসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৪০০ বর্গফুট পাহাড় কেটে সাবাড় করে সমতল করে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ৪০ ফুট উঁচু একটি পাহাড় কেটে ফেলে সেটির ৮ হাজার ঘনফুট মাটি অপসারণ করে।
তৃতীয় মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ জনকে। তারা পাহাড় কেটে সেখানের ২ হাজার ঘনফুট মাটি অপসারণ করেছে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
চতুর্থ মামলায় ৩০ ফুট উঁচু একটি পাহাড় কেটে সাড়ে চার হাজার ঘনফুট মাটি অপসারণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার রিসার্চ অফিসার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখব। কেননা পাহাড় কাটার ফলে শুধুমাত্র পরিবেশের ক্ষতি নয় এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রও নষ্ট হচ্ছে। পাহাড় কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনব আমরা। পাহাড় ধ্বংস রোধ ও পরিবেশ রক্ষাই আমাদের কাজ।’
এর আগে বায়েজিদ লিংক রোড়ে পাহাড় কেটে রেস্টুরেন্ট নির্মাণের দায়ে একজনের বিরুদ্ধে মামলা ও পাহাড়ের উপর গড়ে তোলা বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন।