ডেক্স রিপোর্ট: চাঁদপুরের পুরানবাজারের দরবার কারবার পার্টির মূলহোতা মিজানুর রহমান খান বাদলকে নাশকতার মামলায় আটক করেছে পুলিশ। একই সময় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালিয়েছে বাদলের অন্যতম সহযোগী মজিদ খান ডেঙ্গু। তিনি ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহসভাপতির পদে দায়িত্বে রয়েছেন।
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে পুরান বাজারের মেরকাটিস রোড থেকে বাদলকে আটক করে পুলিশ।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই লোকমান বলেন, এই বাদল এবং ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে জুয়া, দালালি বাণিজ্য, দরবার কারবার, অসহায় মানুষকে অহেতুক ঝামেলায় ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়সহ ব্যাপক অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে আমরা বাদলকে নাশকতার মামলায় আটক করেছি। তার বিষয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ যাত্রায় পালালেও বাদলের সহযোগী ডেঙ্গু ওরোফে ডেঙ্গু চোরাকেও দ্রুতই আটক করা হবে।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমান খান বাদল খুবই ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ। তার নির্দিষ্ট কোন সোর্স অফ ইনকাম নেই। তিনি কখনো বিএনপি আবার কখনো আওয়ামীলীগ সেজে মিছিল মিটিংয়ে অংশ নেন এবং সেগুলো ফেসবুকে পোষ্ট করে নিজের অবস্থান জানান দেন। পুরান বাজারে তিনি আয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাব নামক একটি ক্রিড়া সংগঠন খুলেছেন। সেটাতেই সমাজের ধনার্ঢ্য ব্যাক্তিদের টার্গেট করে পদ-পদবী দেন এবং তাদের থেকে মোটা দাগে নানা ইস্যুতে টাকা পয়সা সুকৌশলে হাতিয়ে নেন।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, মিজানুর রহমান খান বাদল একসময় বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এরপর যখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসেন তখন থেকেই তিনি ফেসবুকে ক্রিড়া সংগঠক ও সমাজসেবক হিসেবে উপস্থাপন শুরু করে। তিনি তার ক্লাবে বড় ধরনের জুয়ার আসর বসিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর থাকাকালীন তার দরবার কারবারের বাণিজ্য ছিলো বেশ রমরমা বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পুরান বাজারের মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের সাথে তার রয়েছে গভীর সখ্যতা। অসহায় মানুষদের পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে তার ক্লাবে এনে দরবার করে লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি বাণিজ্য করতেন।
আরও জানা যায়, দীর্ঘ বছর যাবত পুরানবাজার মধুসূদন স্কুল মাঠের কর্নারে সরকারি জায়গা দখল করে ভাই ভাই স্পোটিং ক্লাবের নামে পাকা দালানের ভবন দিয়ে মিজানুর রহমান খান বাদল জুয়া মাদক ও দরবার বাণিজ্য করার অভিযোগ এলাকাবাসীর। এমনকি ওয়াজ মাহফিলের নামেও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করে সে টাকা নিজেই আত্মসাৎ করারও গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বিরুদ্ধেও তিনি ডেঙ্গুকে সাথে নিয়ে দলবলসহ অবস্থান নিয়েছিলেন।
এছাড়া তার এই ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবের খেলাধুলার সামগ্রী ক্রয়, বিভিন্ন টুর্ণামেন্টে খেলতে যাওয়াসহ নানা অজুহাতে প্রভাবশালী ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটাদাগে বুদ্ধির জোড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন।
চাঁদপুরের প্রভাবশালী এমপি সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনির বড় ভাই জেআর ওয়াদুদ টিপুকেও নিজের কব্জায় রাখতেন এই মিজানুর রহমান খান বাদল। সে বদৌলতে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বালু খেকু নামে পরিচিত দুদকের মামলার আসামি মৃত সেলিম খানের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাকে ভাই ভাই ক্লাবের সভাপতি পদ দিয়ে তার বিভিন্ন অপকর্মের ভাগও নিতেন মিজানুর রহমান খান বাদল। পুলিশি চাকরিসহ সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে এই শীর্ষ দালাল মিজানুর রহমান খান বাদল ও তার সহযোগী আব্দুল মজিদ খান ডেঙ্গু অনেক অসহায় মানুষের কাছ থেকে মোটা দাগে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এলাকায় কোন ভবন নির্মাণ হলে সেখানেও নানা ইস্যু তৈরি করে দরবার কারবার জুড়ে দিয়ে লোক হয়রানি করে টাকা কামাতেন তারা। মূলত সবশেষ তাদের আয়ের উৎসই ছিলো জুয়া ও দালালি ব্যবসা। আর এতো এতো ভুরি ভুরি অপকর্ম আড়াল করতে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত করতে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে তাদের সাথে সখ্যতা দেখিয়ে অসহায় মানুষদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতেন।
এদিকে নাশকতা মামলায় মিজানুর রহমান খান বাদলকে আটক করার খবরে পুরান বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
জনমানুষের এসব অভিযোগ অবগত আছেন জানিয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মোঃ বাহার মিয়া বলেন, চাঁদপুরে নাশকতা মামলায় ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান বাদলকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে তার ছবি পাওয়া গিয়েছে। তাদেরকে ধরতে বাদলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দ্রুতই বাদলের সহযোগী ডেঙ্গুকেও আটক করা হবে।