নিজস্ব প্রতিনিধি- পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মসজিদের জমি দখলের অভিযোগ এনে মানববন্ধনকারীর ব্যানারের আড়ালে আসলে এরা কারা। কি তাদের পরিচয়? স্থানীয় রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ করে মসজিদের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব ব্যক্তিরা রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে ভূমিদস্যূতা অব্যাহত রাখাই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। মসজিদের ব্যানারে মানব বন্ধনের অংশ নেয়া রাজাখালীর পালাকাটার আবদুল মালেকের ছেলে জাহাঙ্গীর, কালামিয়ার ছেলে, মাহমুদুল করিম, আকতার আহমদের ছেলে জাহাঙ্গীর, কালামিয়ার ছেলে কামাল হোছাইন, উকিল আহমদের ছেলে আবদুল খালেক, আবদুল হকের ছেলে, বেলাল, উকিল আহমদের ছেলে আবদুল হক,নুরুল হকের ছেলে, কবির হোছাইন প্রত্যেকে স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড় ও ইউনিয়ন আওয়ামলীগের পদবীধারী নেতা। দীর্ঘদিন ধরে পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক এমপি জাফর আলমের ছত্রছায়ায় ভূমিদস্যূতা করে আসছিল। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন হলে মসজিদের ব্যানারে এসে অরাজকতা সৃষ্টি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল্লাহর মালীকানাধীন জমি জবর দখলের পায়তারা চালাচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হোছাইন শহীদ সাইফুল্লাহ জমি গুলোর কাগজ পত্রে মালীকানা কার এসব বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজাখালী মৌজার দিয়ারা ৩১৩ নং খতিয়ানের দিয়ারা ১৫১৫৪ দাগের ১.৫০ একর জমির রেকর্ডিয় মালিক আজিজুল হকের নিকট থেকে ৩১/০৮/২২ ইং ২৪২০ নং রেজিষ্ট্রি কবলা মুলে ক্রয় করে তার নামে ৩৭৬২ নং দিয়ারা খতিয়ান প্রচার আছে। তিনি অদ্যবধি জমি ভোগ দখলে আছেন।
হোছাইন শহীদ সাইফুল্লাহ বলেন, স্থানীয় ভূমিদস্যুরা দীর্ঘ দিন ধরে আমার ক্রয়কৃত জমি জবর করতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালে, তাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করি। মামলা নং ৭১৮/২৪। এ মামলা আদালতে মুসলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে জমি প্রবেশ করবেনা বলেন। কিন্তু কোন কাগজপত্র না থাকা সত্বেও বর্তমানে স্থানীয় বায়তুল মামুর মসজিদের সাইন বোর্ড লাগিয়ে আমার জমি জবর করতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা ৬৯২/২৩ মামলা দায়ের করলে পেকুয়া উপজেলা ভূমি অফিস বারবাকিয়া ভুমি অফিসের তহসীলদার মোহাম্মদ ফিরোজ সরজমিনে ও কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদনে বিবাদীগনের কোন কাগজ পত্র দখল নেই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নালিশী জমিতে বিবাদীদেরকে প্রবেশে চুড়ান্ত ভাবে বারিত করে মামলার নিস্পত্তি ঘোষনা করেন। একই বিষয়ে প্রতিকার পেতে চকরিয়া সহকারী জজ আদালতে জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে অপর মামলা ৫২৫/২২ দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ৮/০২/২৩ ইং তারিখের ৭নং আদেশে ইউনিয়ন ভুমি অফিসের প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাদী সাইফুল্লাহর ক্রয় দলিল খতিয়ান দখল স্বত্ব বলবদ থাকা ও বাদীর প্রার্থীত মতে ৩৯ অর্ডার রুল ও ১৫১ ধারা মতে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নালিশী জমিতে বাদীর শান্তিপুর্ণ দখলে ব্যঘাত সৃষ্টি না করার জন্য, জমির রুপ পরিবর্তন না করা, নতুন বসতঘর নির্মাণ না করার জন্য বিবাদীদের নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। মামলাটি এখনো চলমান।
মামলার বাদী বলেন, বিবাদীরা কোন কাগজপত্র না থাকা সত্বেও আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে কখনো নিজেরা ২গন্ডা করে ৫জনকে ১০গন্ডা জমির ভাগ চেয়েছিল আর তা না হলে ৮লাখ টাকা চেয়েছিল যার জন স্বাক্ষী রয়েছে। আমি স্পষ্ট বলেছিলাম এখনো বলছি আল্লাহর ওয়াস্তে মসজিদে জমি দান করব কিন্তু কাউকে মাস্তানী স্বরফ জমি বা টাকা দিবনা।
ইউপি সদস্য হোসাইন শহীদ সাইফুল্লাহ বলেন, যারা রাজনৈতিক সামাজিক ও নৈতিকভাবে আমার কাছে পরাজিত হয়েছে তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে ইন্দন দিয়ে মসজিদের নাম ভাঙ্গিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি করে জবর দখল করতে প্রয়াস চালাচ্ছে।