মো. সাইফুল ইসলাম, পেকুয়া! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দিল্লিতে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। পৃথিবীর যেই প্রান্তেই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, তার বিচার তারই বানানো আন্তর্জাতিক মানবতারবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল আদালতে হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় নিজ জন্মভুমি পেকুয়ায় আয়োজিত উপজেলা বিএনপি যৌথভাবে এ সংবর্ধনার গণসংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বিচার বিভাগ ঢেলে সাজাতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের দাবি ছিল বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও অসম্প্রদায়িক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করা। যেখানে আইনের সুশাসন ও সমানাধিকার সমুন্নত থাকবে।
আমরা আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। বিচারককে দক্ষ ও সৎ হতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করলে তাদের অবস্থা বিচারপতি খায়রুল ও মানিকের মতো হবে।
এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ। সঞ্চালনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, সিনয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম শাহনেওয়াজ আজাদ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মকুট।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলনে নিহত ওয়াসিম আকরামকে স্মরণ করে বলেন, ওয়াসিম নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আমাকে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে দেখতে যান কিন্তু তাকে আর জীবিত দেখতে পেলাম না। এ রকম অসংখ্য ছাত্র জনতাকে হাসিনা নির্বিচারে হত্যা করে। তিনি আগামীকাল নিহত ওয়াসিমের কবর জিয়ারত এবং পরিবারে সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া সদরে। দীর্ঘ ১০ বছর ২ মাস ১৪ দিন পর নিজ এলাকায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’টি গণসংবর্ধনার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। গতকাল সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামেন সালাহউদ্দিন। এরপর দলের নেতাকর্মী মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা করে তাকে পেকুয়ায় নিয়ে যান। চকরিয়া বাস টার্মিনাল ও পেকুয়া আউটার স্টেডিয়ামে পৃথক গণসংবর্ধনায় তিনি বক্তব্য দেন।
গণসংবর্ধনায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হয় বলে দাবি করেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৪ জুন কক্সবাজার জেলা শ্রমিকদলের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সালাহউদ্দিন। ২০১৫ সালের ১০ মে রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে তিনি নিখোঁজ হন।