জাকির হোসেন, টুটুল- রাজশাহী জেলার হিমাগারগুলোতে ২০২৫ সালে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ টাকা করায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় অবস্থিত হিমাগার গুলোতে আলু হিমায়িত করে রাখার ভাড়া দ্বিগুন করার প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে আজ ১৯- ফেব্রুয়ারী (বুধবার) রাজশাহী টু নওগাঁ মহাসড়কের বায়া বাজার থেকে নওহাটা পযর্ন্ত ৯টি উপজেলার আলু চাষী কল্যান সমিতির আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট, সফিকুল হক মিলন, ত্রাণ ও পুর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক মেয়র তানোর পৌরসভা ও আহবায়ক কমিটির সদস্য, রাজশাহী জেলা বিএনপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, ওয়াদুদ হাসান- পিন্টু, কৃষক দল সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপি।
জনাব মাও মোঃ সুজামুদ্দিন, আমির বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, এয়ারপোর্ট থানা রাজশাহী, সহ, রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বিশেষ অতিথি, মিজানুর রহমান মিজান বলেন; চলতি বছর আলুর চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য হিমাগার কর্তৃপক্ষ সিনডিকেট করে, বস্তা প্রতি ভাড়া নির্ধারণ না করে কেজি প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। গত বছর বস্তা প্রতি হিসাবে ভাড়া পড়েছে প্রতি কেজি সাড়ে ৩ টাকা থেকে ৪ টাকা। এবছর হঠাৎ করেই প্রতি কেজি আলুর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা। গত বছরের প্রতি বস্তার রেট ২শত, ৫৫ টাকা ছিলো। এবছর বস্তার হিসেবে বুকিং স্লিপ কাটার সময় ২শত ৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। হঠাৎ করে হিমাগার কর্তৃপক্ষ কৃষকদের মাঝে সকল বুকিং বাতিলের ঘোষনা করে নতুন করে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারনের ঘোষণা দিয়ে কৃষকদের বুকিং স্লিপ কাটার ঘোষণা দেন।
এখন আলু চাষিরা বলছেন, ৮ টাকা কেজি হিসেবে হিমাগারে আলুর ভাড়া দিতে হলে আমাদের পথে বসতে হবে। গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি, এটি কৃষকদের প্রতি অন্যায় ও অযৌক্তিক। দ্বীগুণ ভাড়া বৃদ্ধি মেনে নেয়া সম্ভব নয়।
যদি হিমাগার কর্তৃপক্ষ কৃষকদের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণ না করেন, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিটি হিমাগারে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।
এর আগে গত ২৬-ডিসেম্বর প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দাখিল করা হয়েছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তানোর আমান কোল্ড স্টোরের ম্যানেজার জালাল উদ্দীন বলেন, গত বছর প্রতি ৫০ কেজির বস্তার ভাড়া ছিলো ৩শ’ টাকা এবং লেবার খবচ ১৫ টাকা। কিন্তু আলু চাষী ও ব্যবসায়িরা ৫০ কেজি আলুর পরিবর্তে ৭০ কেজি থেকে ৮০ কেজি করে আলু রাখছে। যা সরকারী নিয়ম বহির্ভূত। এবছর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ কোল্ড স্টোর এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আলুর ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে (৫০কেজির বস্তা) প্রতি কেজি ৮ টাকা। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই বলে জানান তিনি।
একটি যৌক্তিক পর্যায়ে হিমাগারে ভাড়া বৃদ্ধির জন্য কৃষকরা স্থানীয় সরকার প্রশাসনের কৃষি অধিদপ্তর সহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর আবারও স্মারক লিপি দাখিল করেছেন।